নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘রাতে আইনজীবীরা দোয়া করে যেন আগামীকাল ২-৪ জন মাদকসেবী পাই ও জামিন করাইতে পারি, যে ভালমন্দ বাজার করে বাড়ী ফিরতে পারি‘ এমন বক্তব্য দেওয়ায় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ক্ষুব্দ এক আইনজীবী।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ওমর ফারুক তুষার নামে লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের আইনজীবী এ নোটিশ দেন। নোটিশটি রামগঞ্জে এমপি শাহাদাত সেলিমের গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
লিগ্যাল নোটিশে আইনজীবীদের নিয়ে সাংসদ শাহাদাত সেলিমের বক্তব্যকে মানহানিকর ও অবমাননাকর উল্লেখ করে ৭ দিনের মধ্যে তা লিখিতভাবে প্রত্যাহারসহ প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য বলা হয়। তা না হলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রামগঞ্জের কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা বার্ষিক ক্রীড়া পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রাতে আইনজীবীরা দোয়া করে যেন আগামীকাল ২-৪জন মাদকসেবী পাই ও জামিন করাইতে পারি, যেন ভালমন্দ বাজার করে বাড়ি ফিরতে পারি। আইনজীবীরা দু-চার-দশ টাকার বিনিময়ে মাদক সেবীদের জামিন করাইয়া থাকে’।
তিনি এর আগের দিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্ব রাতে) স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যেও একই কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে লক্ষ্মীপুরের আইনজীবীরা ক্ষুব্দ হয়ে উঠে। স্থানীয় একাধিক আইনজীবী এর প্রতিবাদে পাল্টা পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলেন।
সাংসদ শাহাদাত হোসেন সেলিমের বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ হয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এডভোকেট মহসিন কবীর স্বপন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আপনার এই হুজুরি মন্তব্য ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করলাম। আমার মনে হয় আপনি সচেতন অবস্থায় এই মন্তব্য করেননি। এই মন্তব্য প্রত্যাহার করুন’।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর এডভোকেট রেজাউল ইসলাম খাঁন সুমন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘রিহ্যাবে পাঠানো হোক’। একই আইডির কমেন্ট বক্সে সাংসদ শাহাদাত হোসেন সেলিমের বক্তব্যের ফটোকার্ড জুড়ে দিয়েছেন।
যদিও আইনজীবীর পোস্টের কমেন্টে অধিকাংশ নেটিজেনরাই সাংসদ শাহাদাত হোসেন সেলিমের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।
রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ রামগঞ্জ আসনের সাংসদ শাহাদাত হোসেন সেলিমের এমন বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে ফেসবুকে ফটোকার্ড ব্যবহার করে লিখেছেন, ধন্যবাদ মাননীয় সাংসদ’ আপনার হাত ধরেই রামগঞ্জ উপজেলা মাদকমুক্ত করা হবে। নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরো লিখেছেন, ভুক্তভোগি এলাকাবাসী মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের পাকড়াও করে পুলিশে দেয়। পুলিশ মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। কতিপয় অর্থলোভি আইনজীবি যদি মাদকসেবনকারী ও কারবারিদের পক্ষে ওকালতি না করে তাহলে আরো আগেই এ দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হতো।
লিগ্যাল নোটিশকারী এডভোকেট ওমর ফারুক তুষার জানান, বিচার ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অঙ্গ আইনজীবীদের নিয়ে একজন সংসদ সদস্য ও দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে শাহাদাত সেলিমের ভিত্তিহীন, মনগড়া ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ এর পরিপন্থী বক্তব্য দিয়ে আইনজীবী সমাজের মান-সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করেছেন। উক্ত মানহানিকর বক্তব্যের কারনে বাংলাদেশ দঃ বিঃ ৪৯৯ ও ৫০০ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে আইনজীবী সমাজের পেশাগত সুনাম ও মর্যাদার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, লিগ্যাল নোটিশটি এখনো পাইনি, তবে শুনেছি। লিগ্যাল নোটিশ পেলে আমার আইনজীবীকে দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী উত্তর পাঠাবো। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে নিজের দেওয়া বক্তব্যের খন্ডিত অংশ এদিক সেদিক করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিতর্কিত করা হয়েছে। মূলত মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রাসঙ্গিকভাবে উকিলদের নিয়ে মন্তব্য করা হয়। তবে সেটি কারও ইমেজে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ছিলো না।
মন্তব্য করুন